Slider

Theme images by kelvinjay. Powered by Blogger.

ভিডিও

রাজ্য

দেশ

খেলা

বিনোদন

আন্তর্জাতিক

ফটো গ্যালারি

» » » মৃত ভোট কর্মী শিক্ষক রাজকুমার রায় এর মৃত্যুকে নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য এবং দন্দ । এলাকায় দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য।

উজ্জ্বল ভট্টাচার্য (রিপোর্টার, মুক্তিযোদ্ধা) শিলিগুড়ি - পঞ্চায়েত ভোটের দিন থেকে  নিখোঁজ   প্রিসাইডিং অফিসার পেশায় শিক্ষক  রাজকুমার রায়-  মৃত্যুকে কেন্দ্র করে  বুধবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাসিদাওয়া এলাকায় চাঞ্চল্য জরায় । ঐ শিক্ষকের  মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত ফাসিদাওয়া সংলগ্ন ৩১ নং জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করেন মৃতের বাড়ির এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা । বুধবার বিকেলে এই ঘটনায় রাজ্য  নির্বাচন কমিশনকে দায়ি করে পেশায় শিক্ষক মৃত ভোট কর্মীর মৃত্যুর
তদন্ত এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে একটি   মৌন মিছিল বের করা হয় । এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় বেশ কিছু শিক্ষক- শিক্ষাকর্মী ও সাধারণ মানুষ । 
রাজকুমার রায় এর দুর্ঘটনায় মৃত্যু , আত্মহত্যা    না খুন তা নিয়ে শুরু দন্দ ও ধন্দ । যদিও মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এবং  মৃতের  পরিচিতদের মধ্যে অনেকেরই দাবি রাজকুমার রায়- কে খুন করা হয়েছে । অপরদিকে এবিষয়ে  এখনো পর্যন্ত  জানা  গেছে  পুলিশের  মতে এটি প্রাথমিকভাবে  আত্মহত্যা বা  দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলেই মনে  করছে পুলিশ   এবং  এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে   পুলিশ সূত্রে জানা যায় ।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়,
 রাজকুমার রায় এর  বাড়ি  শিলিগুড়ি কাছে  বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী  ফাঁসিদেওয়ার কান্তিভিটা গ্রামে  ।  কর্মসূত্রে  রাজকুমার রায়  রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরে  বর্তমানে    থাকতেন এবং  উত্তর দিনাজপুর জেলার  করণদিঘি সংলগ্ন  রহটপুর হাই মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন তিনি । এবারের    পঞ্চায়েত ভোটের ভোটকর্মী  ( প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে) হিসেবে  তিনি ইটাহার ব্লকের সোনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ নম্বর বুথের দায়িত্রে ছিলেন । গত ১৪ই মে ২০১৮ তে ভোটগ্রহণের দিন, রাত ৮টা  নাগাদ শৌচকর্ম করার কথা বলে বুথ থেকে বেরোন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।  তার আগে শেষবারের জন্য পরিজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। রাতে  দেরি হলেও  বাড়িতে  বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, সেদিন রাতে আর  বাড়ি ফেরেননি। ফোন করেও ফোন নম্বর সুইচ অফ বলায় আর পরিবারের লোকেরা যোগাযোগ করতে পারেন নি ।  রাজকুমার রায় এর  খোঁজ করতে তাঁর  পরিবারের সদস্যরা  পৌঁছান ইটাহার ব্লক অফিসে। খোঁজ না পেয়ে  ইটাহার এর বিডিও  (সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক) ইটাহার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন । অবশেষে  উত্তর দিনাজপুর জেলার  সোনাডাঙি এলাকায় রেললাইনের ধার থেকে  একটি  বছর ৪৫ বয়সের পুরুষ মানুষের ক্ষতবিক্ষত   দেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ ।  মৃতদেহটির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান     রাজকুমারের পরিপরিবারের লোক।  পরিবারের তরফে মৃতদেহটি রাজকুমার রায়-  এর  দেহ  বলে    শনাক্তকরণের পর পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় বুধবার । রাজকুমার রায়-  এর কি ভাবে বা কি কারণে মৃত্যু তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য এবং দন্দ ।
এই রহস্যজনক  মৃত্যুকান্ড নিয়েই  বুধবার  শুরু হয় পথ অবরোধ,  প্রতিবাদ মিছিল ।
মৃত শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য তার সহকর্মী শিক্ষকদেরমধ্যে  দুই- একজন বুধবার খোভ প্রকাশ করে  জানান -

'গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে গিয়ে এত সুন্দর জীবনটাকে বিসর্জন দিতে হলো। গত ১৪.৫.১৮. তারিখে ইটাহার ব্লকের সোনার পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিল। সন্ধ্যা আটটা নাগাদ বাড়িতে ফোন করার জন্য বুথের বাইরে আসে। তার স্ত্রী কে বলে যে ভোট শেষ হতে 10 টা - 11টা হবে। তারপর আর কোনো যোগাযোগ নেই । আমার সহকর্মীরা খবর পেয়ে রাতে ইটাহার ব্লকের যান। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করেন । কিন্তু তাঁদের কোনো তৎপরতা বা দায়বদ্ধতা দেখা যাইনি। অবশেষে পরের দিন সকালে মিসিং ডায়েরি করা হয়। তাকে অপহরণ করা হয়। অবশেষে তার ছিন্নভিন্ন দেহ রায়গঞ্জ স্টেশন থেকে দেড় কিমি পূর্বে রেল লাইনের উপর থেকে উদ্ধার করা হয়। তার সুখের সংসার নিমেষে অন্ধকার হয়ে যায়। একটি ছেলে একটি মেয়ে আর স্ত্রী । বৃদ্ধ বাবা মা। একজন সহকর্মীর ছিন্নভিন্ন লাশ তুলতে হচ্ছে। এর থেকে চাকুরি জীবনের আর কোনো ভয়াবহ দৃশ্য হতে পারেনা। রাজকুমারের এই মৃত্যু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে গেল।  একজন নির্বাচনী অফিসার ভোট কেন্দ্র থেকে অপহৃত হলো অথচ নির্বাচন কমিশনের উদ্ধার করার কোনো তাগিদ নেই কেন? ২। গণতন্ত্র রক্ষা করার দায় কি শুধুই শিক্ষকদের?  জীবন রক্ষার অধিকার আগে না ভোট করার অধিকার আগে? নির্বাচন কমিশন  ভোটকর্মীদের জীবন রক্ষা করার ক্ষমতা না থাকলে নির্বাচন করছে কেন? এবং আরো অনেক  প্রশ্ন আছে  ।  রাজকুমার  আমাদের ছেরে  চলে গেছে । ফুলের মতো দুটো বাচ্চা যারা তাদের বাবাকে আর পাবে না। এমন অবস্থা যেন আর কারো  দেখতে না হয় । আমরা এই রহস্যজনক মৃত্যুমৃত্যুকান্ডের পূর্নাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি  । "

এদিন রাতে রাজকুমার রায় এলাকায় মৃতদেহ পৌছলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা খোভ প্রকাশ করে ।  এদিন রাতে এই খবর লেখা পর্যন্ত বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়  রয়েছে , এলাকায় এদিন দিন রাত  করা পুলিশি পাহারা ও টহল চলছে বলে স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post