Slider

Theme images by kelvinjay. Powered by Blogger.

ভিডিও

রাজ্য

দেশ

খেলা

বিনোদন

আন্তর্জাতিক

ফটো গ্যালারি

» » হিমঘরের গ্যাস লিক হয়ে অসুস্থ ৩, কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত

শুক্রবার রাতে ধনেখালির রাউৎপুরে  বলরাম কোল্ড স্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। অসুস্থ হয় পরে তিনজন। শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ
অ্যামোনিয়া গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে হিমঘর টির পাশাপাশি পাঁচটি গ্রামের মানুষ। রাতের খাবার সেরে গ্রামের মানুষ যখন শুতে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময় আতঙ্ক ছড়ায়। তড়িঘড়ি প্রত্যেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছোটাছুটি শুরু করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাশাপাশি গ্রামগুলির বয়স্ক, অসুস্থ ,গর্ভবতী মায়েদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় । আশ্রয় দেওয়া হয় দূরবর্তী স্কুল ও কলেজ গুলিতে। হিমঘরের বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে তার মধ্যে তিনজনকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বান্না, রাউতপুর ,গোবিন্দপুর জগন্নাথপুর ,দেওড়া এই  পাঁচটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়ায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাষের জমি। শশা, ঝিঙে, পটল সমস্ত রবি ফসল গ্যাসের তীব্রতায় ঝলসে যায়। শনিবার সকালে দলে দলে কৃষকরা হিমঘরটির সামনে জমায়েত হয়। তারা দাবি করে কৃষির যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ হিমঘর মালিককে দিতে হবে। নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে হবে ,না হলে অবিলম্বে হিমঘর টি বন্ধ রাখতে হবে। স্থানীয় কৃষক বিজন মাঝি বলেন" ২০১৩ সালে এই হিমঘরে গ্যাস লিক করে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। হিমঘর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা দিকে কোনদিনই ব্যবস্থা নেয় না। আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় আমাদের। হিমঘরে একাধিক মালিক হওয়ায় সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আশ্চর্যের বিষয় কিছুদিন আগেই তারকেশ্বরে বাবার সত্যনারায়ন নামে হিম  ঘরটিতে আগুন লেগেছিল। সেই হিমঘর টি একই মালিক গোষ্ঠীর। একই মালিক গোষ্ঠীর দু-দুটি হিমঘর পরপর কিভাবে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে সে বিষয়টি সন্দেহজনক।" অপর এক চাষী সুকুমার মাঝি বলেন"১৯৯৬ সালে তৈরি এই হিম ঘরটি। বারে বারে গ্যাস লিক হয় এই হিমঘরে কোনরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ১০০ বিঘার ওপর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঠে থাকা আলু, পটল, ঝিঙে ,শশা গাছ সম্পূর্ণ ঝলসে গেছে গ্যাসের তীব্রতায়। গত বছর আলুর দাম পাওয়া যায়নি এ বছর এই ধরনের দুর্ঘটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা না খেয়ে মারা যাবো। প্রশাসনের কাছে আমাদের নিবেদন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি গুলির পর্যবেক্ষণ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে হিম ঘরটি চালু হোক। নাহলে হিমঘর টি  সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হোক।"হুগলি জেলা তৃণমূল কৃষাণ ক্ষেতমজুর সংগঠনের সভাপতি রামেন্দু সিংহ রায় বলেন"স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় এলাকায় সমস্ত মানুষকে তৎক্ষণাৎ  নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির বিষয়টি নিয়ে আমরা কৃষি বিপণন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত কাছে জানাবো। স্থানীয় বিডিও,এসডিও  এবং কৃষি দপ্তর কে জানাবো তারা দেখে সুব্যবস্থা নিশ্চয়ই নেবে কৃষকদের। পরবর্তী পর্যায়ে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট ছাড়পত্র দেখানোর পরে যেন হিমঘর টি চালু হয়। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করে এইভাবে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন অসুবিধার সম্মুখিন হোক এটা আমরা কখনোই চায়না।"


«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post